উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটের রাজনৈতিক মানচিত্রে গত কয়েক দশকে যে নামটি সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল হয়ে দেখা দিয়েছে, তিনি হলেন অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়—সর্বত্রই তার সরব উপস্থিতি তাকে পরিণত করেছে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী জননেতায়। মূলত তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতা কেবল একজন রাজনীতিবিদই নন, বরং লালমনিরহাট তথা পুরো রংপুর বিভাগের বিএনপির রাজনীতির এক প্রধান কারিগর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর রাজনৈতিক উত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে বিএনপিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি সাংগঠনিক দক্ষতায় নিজের জানান দেন। এরপর ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে জয়লাভ এবং তৎকালীন মন্ত্রিসভায় উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক। বিশেষ করে ত্রাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন তার গৃহীত পদক্ষেপগুলো উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপীড়িত মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। সংসদীয় রাজনীতিতে তার সেই সময়কাল লালমনিরহাটের অবকাঠামোগত উন্নয়নের স্বর্ণযুগ হিসেবে আজও বিবেচিত হয়। তবে ক্ষমতার অলিন্দে থাকা যতটা সহজ ছিল, বিরোধী দলে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া ছিল তার চেয়েও বেশি চ্যালেঞ্জিং। ওয়ান-ইলেভেনের কঠিন সময় কিংবা পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছে তাকে। অসংখ্য মামলা ও রাজনৈতিক চাপের মুখেও তিনি মাঠ ছাড়েননি, বরং তৃণমূলের কর্মীদের আগলে রেখেছেন এক বটবৃক্ষের মতো। বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের ধরন প্রমাণ করে যে, দলের দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে তার কোনো বিকল্প নেই। ব্যক্তিগত জীবনে শিক্ষাবিদ হিসেবে সুপরিচিত এই নেতার সাধারণ মানুষের প্রতি এক অদ্ভুত টান রয়েছে। কেবল দলীয় পরিচয় নয়, দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের যেকোনো বিপদে তিনি হয়ে ওঠেন প্রথম আশ্রয়স্থল। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসাদুল হাবিব দুলুর রাজনীতির মূল শক্তি হলো তার ব্যক্তিগত স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের সাথে প্রগাঢ় সংযোগ। রাজপথের আন্দোলনে তিনি যেমন কঠোর, সাধারণ মানুষের বিপদে তেমনই কোমল—নেতৃত্বের এই বিরল গুণই তাকে সাধারণ মানুষের মণিকোঠায় স্থান করে দিয়েছে। পরিবর্তনশীল রাজনীতির এই প্রেক্ষাপটে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু আজও উত্তরাঞ্চলের রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শী নেতৃত্ব আগামী দিনে কেবল একটি নির্দিষ্ট দলকে নয়, বরং পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।